রক্তে এলার্জি কমানোর ঘরোয়া উপায় ।

মানুষ এখন ভেজাল খাওয়ার কারণে অনেক রকমের অসুখের সম্মুখীন হচ্ছে । তার  মধ্যে একটি হলো রক্তে এলার্জি । বাংলাদেশের অনেক মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন । রক্তে এলার্জি সমস্যা সাধারণত ধুলাবালি, নির্দিষ্ট খাবার, পরাগেনু  বা অন্য কোন এলার্জিনের কারণে শরীরে এলার্জেন্ট বিরোধী হিস্টোমাইন তৈরির ফলে ঘটে । 

রক্তে-এলার্জি-কমানোর-ঘরোয়া-উপায়


রক্তে এলার্জি এ সমস্যাটি কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে সমাধান করা যায় । তা সম্পর্কে যদি আপনি জানতে চান তাহলে আমাদের নিচের পেজ সূচিপত্র থেকে জেনে নিন । 

পেজ সূচিপত্র ঃ রক্তে এলার্জি কমানোর ঘরোয়া উপায় 

নিম পাতার গুড়া বা রস 


নিম প্রাকৃতিকভাবে রক্ত বিশুদ্ধ করতে এবং এলার্জি কমাতে দারুন কাজ করে।  প্রথমে আমাদের নিম গাছ থেকে নিম পাতা সংগ্রহ করতে হবে  । তারপর সংগ্রহকৃত নিমপাতা গুলোকে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে এবং গুরু করে নিতে হবে । গুড়ো করা হয়ে গেলে প্রতিদিন সকালে ১/৪ চা চামচ নিমপাতার গুঁড়ো এক গ্লাস পানির সাথে ইষদুষ্ণ মিশিয়ে পান করতে হবে বা নিম পাতা ফুটিয়ে সেই পানি পান করলে এলার্জির সমস্যা দূর হয় । 

হকুদ ও দুধ পান 

হলুদের রয়েছে কার কারকিউমিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান । রাতে ঘুমানোর আগে এক গ্লাস গরম দুধে আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়ো মিশিয়ে খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং রক্তের এলার্জি কমে । তাই আমাদের এই সব উপাদানগুলো এলার্জি কমানোর জন্য পান করা জরুরী । 

লেবু ও মধুর পানি পান

হলুদ ও মধু এলার্জি দূর করার জন্য খুব ভালো কাজ করে । লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি যা রক্তের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এবং এলার্জি বৃদ্ধির রোধ করে । প্রতিদিন সকালে খালি পেটে এক গ্লাস হালকা গরম পানির সাথে অর্ধেক লেবুর রস ও এক চামচ মধু মিশিয়ে পান করলে এলার্জি সমস্যা দূর হয় । এভাবে আপনি এলার্জি সমস্যা দূর করতে পারেন

গ্রিন টি রোজ সকালে পান

গ্রিন টি রোজ সকালে পান করা ভালো । কারণ গ্রিন টি তে থাকা বিশেষ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট শরীরে হিস্টামিন নিঃসরণ করায় । যা এলার্জির মাত্রা কমাতে সাহায্য করে । তাই দিনে ১ থেকে ৩ কাপ গ্রিন টি পান করা ভালো । এতে খুব তাড়াতাড়ি এলার্জি সমস্যা দূর করা যায় । 

তুলসী পাতার রস পান

তুলসী পাতার রস আমাদের শরীরের জন্য খুব ভালো তুলসী পাতায় থাকা এন্টি মাইক্রোবিয়াল উপাদান রয়েছে । তুলসী পাতা ফুটিয়ে চা বানিয়ে বা আদার রসের সাথে তুলসীর রস মিশিয়ে খেলে শরীরের এলার্জিক প্রতিক্রিয়া কমে ।

প্রতিদিনের খাদ্যাভাসের পরিবর্তন

যেসব খাবারগুলো খেলে আপনার এলার্জির কারণ হয়ে দাঁড়ায় সেসব খাবারগুলো হলো চিংড়ি, হাঁসের ডিম, গরুর মাংস, বেগুন বা পুঁইশাক এগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকুন । এলার্জি কমানোর জন্য প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন যাতে করে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ প্রসবের সাথে বের হয়ে যায় । 

শোবার ঘর ও বিছানার পরিচ্ছন্নতা

এলার্জি কমানোর জন্য আমাদের ঘর ভালোভাবে পরিষ্কার করে রাখতে হবে । যে বিছানায় আমরা ঘুমাই সে বিছানার চাদর বালিশের কভার এবং পর্দা সপ্তাহে একবার হলেও গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে প্রখর রোদে শুকিয়ে নিতে হবে । 

আলো বাতাসের ব্যবস্থা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ 

ঘরের জানালা খুলে দিতে হবে যাতে পদার্থ রোদ ও বাতাস চলাচল করতে পারে । রোদ ও শুকনো বাতাস ঘরের জীবাণু ও ছত্রাক ধ্বংস করে । তারপর বাথরুম বা রান্নাঘরের  জায়গা পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন কারণ সেখানে ছত্রাক জন্মায় যা এলার্জির স্যাঁতসেঁতে অন্যতম বড় কারণ । 

পরিধানকৃত জামা কাপড় গুলো পরিষ্কার  

আমাদের শরীরে থাকা জামাকাপড় গুলো নিয়মিত ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে । আমাদের শরীরে থাকা  জামা কাপড় গুলো যদি সময় মত পরিষ্কার না করা হয় তাহলে জামা কাপড়ে থাকা ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া এলার্জির বড় কারণ হতে পারে । তাই আমাদের নিয়মিত জামাকাপড় ডিটারজেন্ট দিয়ে পরিস্কার রাখতে হবে তাহলে অ্যালার্জি থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া যাবে । 

সতর্কতা গুলো জানুন


যদি এলার্জির কারণে শ্বাসকষ্ট, তিব্র চুলকানি শরী, ফুলে যায় বা ত্বকে বড় লাল চাকা দেখা দেয় তবে ঘরোয়া উপায়ের উপর নির্ভর না করে অধিক দ্রুত একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত । আপনার কি নির্দিষ্ট কোনো খাবার বা পরিবেশে এলার্জির লক্ষণ বেশি দেখা দেয় । তাহলে সেসব জায়গা এড়িয়ে চলতে হবে । 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url