সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা আবেদন

 বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে অনেক মানুষ কাজের জন্য যায়।  বর্তমানে সৌদি আরবে বাংলাদেশি মানুষের চাহিদা অনেক বেশি। সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসাতে ভালো কাজ পাওয়া ও নিজের অবস্থান সুরক্ষিত করার জন্য কিছু সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ ও কৌশল অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরী। তাহলে আপনি সৌদি আরবে টিকে থাকতে পারবেন।

সৌদি-আরবের-কোম্পানি-ভিসা-আবেদন

বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কোম্পানি ভিসা নিয়ে যাওয়ার জন্য আনুমানিক কত টাকা খরচ পড়বে এবং কোম্পানি ভিসা হতে কত সময় লাগবে তা আপনি এখান থেকে বিস্তারিত জানতে পারবেন। চলুন দেরি না করে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করি।

পেইজ সূচিপত্রঃসৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা আবেদন

কারিগরি শিক্ষা ও পেশাগত দক্ষতা অর্জন করতে হবে

সৌদি আরবে কোম্পানির ভিসায় যাওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে একটি স্ক্রিল জানা খুব জরুরী। আপনার কাছে যদি স্কিল সার্টিফিকেট থাকে তাহলে আপনার সৌদি আরবে কাজ পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। সৌদি সরকার বিদেশী কর্মীদের দক্ষতা মূল্যায়ন করে তাই আপনি যদি সৌদি আরবের কোন কোম্পানিতে কাজ পেতে চান তাহলে আপনি যেসব কাজগুলো জানলে দ্রুত কাজ পাবেন সেগুলো হলো ইলেকট্রিশিয়ান, এসি টেকনিশিয়ান, ওয়েল্ডার, পাইপ ফিটার বা মেকানিকেল এর মত কারিগরি কাজ।

তা ছাড়াও আপনি ড্রাইভিং এর উপর কাজ পেতে পারেন। বর্তমানে সৌদি আরবে ড্রাইভারদের চাহিদা ব্যাপক। তাই ভারি বা হালকা যানবাহন চালানোর ড্রাইভিং লাইসেন্স আন্তর্জাতিক ডাইভিং শেখার পদ্ধতি কাজের সুযোগ বহুগুণ দাঁড়িয়ে দেয়।

ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতা থাকা জরুরী

সৌদি আরবে কোম্পানি ভিসা নিয়ে কাজ পেতে হলে আপনাকে আরবি ভাষার বেসিক জানা অত্যন্ত জরুরী। দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক আরবি ভাষাগুলো শিখে গেলে আপনার কাজ পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে এবং আপনার কাজ স্থায়ী হবে।

তাছাড়া আপনি যদি ইংরেজি ও কম্পিউটারে ভালো দক্ষ হন তাহলে আপনি অনেক জায়গায় কাজ পাবেন যেমন অফিসিয়াল হোটেল, ক্যাফে বা টেকনিক্যাল কাজের জন্য ইংরেজি ভাষা ও কম্পিউটার চালানোর দক্ষতা অনেক বড় সুবিধা দেয়।

সঠিক মাধ্যমে চাকরি খোঁজা ও আবেদন

বাংলাদেশে সরকারি অনুমোদিত কিছু এজেন্সি আছে। যেখানে আপনি চাকরির জন্য আবেদন করতে পারেন। বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত এজেন্সি বিএমইটি (BMET) বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করুন অযথা কোন অপরিচিত দালাল বা কোন ব্যক্তিকে চাকরির জন্য সরাসরি টাকা দেবেন না।

সৌদি-আরবের-কোম্পানি-ভিসা-আবেদন (2)


অনলাইনে কিছু জব প্লাটফর্ম রয়েছে যেখানে আপনারা  সিভি দেয়ার মাধ্যমে কাজ পেতে পারেন। অনলাইনের জব প্ল্যাটফর্ম গুলো হলো Linkedln,Gulftalent,Bayt.com এবং Naukrigulf। 

ভিসার ধরন ও কোম্পানি যাচাই করুন জানুন

বাইরের দেশে কাজ করার জন্য আমাদেরকে প্রথমে সঠিক কোম্পানি বেছে নেওয়া খুব জরুরী।  ফ্রি ভিসা বা কোন ভুয়া এজেন্টের চক্করে না পড়ে স্থায়ী কোম্পানি ভিসা বেছে নিন যেন আপনার কাজ স্থায়ী ও দীর্ঘ হয়।

আরো পড়ুন ঃ

সরকারি ভালো কোন কোম্পানির ফ্রি ভিসা বা ডিরেক্ট রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রে খরচ ২ লাখ টাকার নিচেও হতে পারে। তবে রিক্রেটিং এজেন্সির মাধ্যমে গেলে 3.5 থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেগে যায়।

সৌদি আরব যাওয়ার আগে চুক্তিপত্র মনোযোগ দিয়ে পড়ুন

আপনি বিদেশ বা দেশে যেখানে কাজ করেন না কেন। আপনি যে কাজের জন্য যাচ্ছেন সে কাজের চুক্তিপত্র ভালো করে পড়ে নিতে হবে । কারণ চুক্তিপত্র ভালোভাবে পুড়ে না গেলে পরে বেতন ও কাজের সময় নিয়ে ঝামেলা হতে পারে। তাই আগে চুক্তিপত্র ভালো করে পড়ে নিবেন এতে করে বেতন ও কাজের সময় নিয়ে পরে ঝামেলা হবে না।

সৌদি আরব যাওয়ার জন্য মেডিকেল টেস্ট

সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রথমে বেশ কয়েকটি মেডিকেল টেস্ট করাতে হয়। মেডিকেল টেস্ট যদি পজিটিভ আসে তাহলে দ্রুত আপনার ভিসা হয়ে যাবে। আর মেডিকেল টেস্ট যদি নেগেটিভ আসে তাহলে আপনার ভিসা হতে একটু সময় লাগবে। মেডিকেল টেস্ট করানোর জন্য গামকা (GAMCA) অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে শারীরিক পরীক্ষা করাতে হয়। এখান থেকে রিপোর্ট যদি (FIT) আসে তাহলে পরবর্তী ধাপে যাওয়া যায়। তাছাড়া ভিসা করা সম্ভব নয়।

আরো পড়ুনঃ

ভিসা স্ট্যাম্পিং করা জরুরি

বিদেশে যাওয়ার জন্য ভিসা স্ট্যাম্পিং করা অত্যন্ত জরুরী। যদি আপনার ভিসা স্টাম্পিং করা না থাকে তাহলে আপনি বিদেশে যেতে পারবেন না। কারণ বিমানে ওঠার আগে প্রথমে ভিসা চেক করা হয় যদি ভিসাতে স্ট্যান্ডিং করা না থাকে তাহলে সে ব্যক্তিকে অপরাধী ভেবে তাকে বিমানে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। তাই ভিসা হওয়ার পর স্ট্যাম্পিং করে নিতে হবে।

কোম্পানি ভিসা আনুমানিক খরচ

সরকারি ও দাপ্তরিক নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত খরচ বেশ কম হলেও রিকুয়েটিং এজেন্সি, ড্রাইভিং ফি বা মধ্যস্থতাকারীদের কারণে খরচের পার্থক্য তৈরি হয়। আমরা সে খরচের আনুমানিক তালিকা নিচে দিয়ে দিলাম।
  • অফিসিয়াল খরচঃ৪০,০০০ টাকা থেকে ৬৫,০০০ টাকা।
  • এজেন্সি বা দালালি ফ্রিঃ২,৫০,০০০ টাকা থেকে ৪,০০,০০০ টাকা
  • সর্বমোট আনুমানিক খরচঃ৩,৫০,০০০ টাকা থেকে ৫,৫০,০০০ টাকা

ভিসা প্রসেসিং এর সময়

  • মেডিকেল ও বায়োমেট্রিক সম্পন্ন করাঃ ৭-১৫ দিন
  • এমবাসি থেকে ভিসা স্ট্যাম্পিংঃ ১০-২০ দিন 
  • BMET স্মার্ট কার্ড ও ফ্লাইট টিকিটঃ ১০-১৫ দিন
  • মোট সময়ঃ 45 থেকে 90 দিন

লেখকের মন্তব্য

সৌদি আরবের কম্পানি ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াটি বেশ গুছানো ও নিয়ম ভিত্তিক । তবে এর সফলতা নির্ভর করে সঠিক নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে এবং সরকারের নিয়মে অফিসিয়াল খরচ নির্ধারিত থাকলেও মধ্যস্থতাকারী বা এজেন্সির কারণে খরচ ও সময়ে প্রায়ই তারতম ঘটে। তাই  কারো প্রলোভনে না পড়ে কাজের স্কিল তৈরি করা বিএমইটি নিবন্ধিত বৈধ এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করা এবং চুক্তিপত্র ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ সঠিক পদ্ধতি আর সঠিক নিয়ম মেনে এগোলে এই প্রক্রিয়ায় যোগী যেমন কমে তেমনি সৌদি আরবে গিয়ে ভালো বেদনে নিরাপদে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সহজ হয় তাই আমরা যদি দালালের জব করে না পড়ে সঠিক নিয়ম মেনে সৌদি আরব যেতে পারি তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ ভালো হবে তা আশা করা যায় তাই আপনারা সৌদি আরব গেলে অবশ্যই সঠিক নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করবেন 


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url